কুমিল্লার গোমতী নদীর বিস্তীর্ণ চরে এখন সবুজের সমারোহ। চরের জমিতে সারি সারি লাউ শাকের চাষে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। চাহিদা বেশি থাকায় লাউ শাক বিক্রি করে তাঁরা পাচ্ছেন ভালো দাম।
বুড়িচং উপজেলার ভান্তির চরে গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চরের জমিগুলোতে লাউ শাকের পাশাপাশি কিছু জমিতে মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক ও মুলা চাষও হয়েছে। পাশের কামারখাড়া, বালিখাড়া ও কাহেত্রা এলাকাতেও গোমতীর চরে ব্যাপক পরিমাণে লাউ শাকের আবাদ হয়েছে।
চরের কৃষকেরা জানান, অল্প সময়ে কম খরচে লাউ শাক চাষ করা যায় এবং একটি গাছ থেকে বারবার শাক সংগ্রহ করা সম্ভব। বাজারে সারা বছরই লাউ শাকের চাহিদা থাকায় তাঁরা নিয়মিত আয় করতে পারছেন।
ভান্তি গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, ৪০ শতাংশ জমিতে লাউ শাক চাষে তাঁর খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কয়েক দফায় বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, ফলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। তিনি আরও জানান, বীজ বপনের এক মাসের মধ্যেই বিক্রি শুরু করা যায় এবং জমির পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, “গোমতীর চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। বর্তমানে এখানকার বেশিরভাগ জমিতে লাউ শাকের চাষ হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও কুমিল্লা শহর ও পাশের উপজেলাগুলোর বাজারে এই শাক সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া নিমসার বাজারের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে লাউ শাক।”
চাহিদা ও লাভের কারণে চরের কৃষকেরা এখন লাউ শাক চাষে আরও উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।

