আমন ধান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান খাদ্যশস্য। অধিক ফলন ও ভালো মানের ধান উৎপাদনের জন্য কৃষকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে করণীয়গুলো দেওয়া হলো—
১️⃣ উপযুক্ত জাত নির্বাচন
১। নিজ অঞ্চলের জলবায়ু ও জমির অবস্থার সঙ্গে মানানসই আমন ধানের জাত নির্বাচন করতে হবে। ২। উঁচু জমির জন্য: ব্রি ধান–৩৪, ব্রি ধান–৩৯, ব্রি ধান–৫৬, ব্রি ধান–৬২ ইত্যাদি। ৩। মাঝারি জমির জন্য: ব্রি ধান–৪৯, ব্রি ধান–৫১, ব্রি ধান–৫২, ব্রি ধান–৫৭ ইত্যাদি। ৪। নিচু জমির জন্য: ব্রি ধান–৪০, ব্রি ধান–৪১, ব্রি ধান–৪৬, ব্রি ধান–৭১, ব্রি ধান–৭৮ ইত্যাদি।
২️⃣ চারা উৎপাদন
১। আগাছামুক্ত উর্বর জমিতে চারা তৈরি করতে হবে।
২ চারা বয়স ২৫–৩০ দিন হলে রোপণ উপযুক্ত হয়।
৩। রোগমুক্ত ও সমবয়সী চারা বেছে নিতে হবে।
৩️⃣ রোপণ ও জমি প্রস্তুতি
১। ভালোভাবে চাষ দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।
২। প্রতি গর্তে ২–৩টি চারা ২০×১৫ সেমি দূরত্বে রোপণ করতে হবে।
৩। জমিতে পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪️⃣ সার প্রয়োগ
১। জমির উর্বরতা অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
২। সাধারণভাবে প্রতি বিঘায় ইউরিয়া ৩৫ কেজি, টিএসপি ২০ কেজি, এমওপি ১৫ কেজি ও জিপসাম ১০ কেজি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩। ইউরিয়া ৩ ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করলে ফলন বাড়ে (রোপণের ১৫, ৩০ ও ৫০ দিন পর)।
৫️⃣ আগাছা ও পোকা-মাকড় দমন
১। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে।
২। দাগ রোগ, পাতা মোড়ানো পোকা, মাজরা পোকা ইত্যাদি দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
৬️⃣ পানি ব্যবস্থাপনা
১। জমিতে হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে।
২। ফসলের শেষ দিকে (ধান পাকার সময়) জমি শুকিয়ে রাখতে হবে।
৭️⃣ ফসল কর্তন ও মাড়াই
১। ৮০–৮৫% ধান পেকে গেলে ফসল কেটে নিতে হবে। ২। মাড়াইয়ের পর ভালোভাবে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১২–১৪% রেখে সংরক্ষণ করতে হবে।
৮️⃣ রোগ ব্যবস্থাপনা
১। ব্লাস্ট, শেঠ ব্লাইট ইত্যাদি রোগ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২। অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।

