ঝিনাইদহের মহেশপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্ট্যালিন (৩৬) সমতলে বিদেশি আনারকলি বা ‘প্যাসন ফ্রুট’ চাষ করে নজির সৃষ্টি করেছেন। বিদেশি এই ফলটি দেশের পার্বত্য অঞ্চলে কিছুদিন ধরেই জনপ্রিয়, তবে সমতলে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম সফল চাষ করেছেন স্ট্যালিন।
মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুঘরি গ্রামের এই উদ্যোক্তা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে কৃষি কাজে যুক্ত হন তিনি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় তাঁর যাত্রা। প্রথমে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ করলেও পরবর্তীতে আনারকলির প্রতি আগ্রহী হন।
পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে আনারকলি চাষ করে অভাবনীয় ফলন পেয়ে এখন তিনি আড়াই বিঘা জমিতে এর আবাদ করছেন। প্রথম দুই শতক জমিতে ২০টি গাছ থেকে তিনি পেয়েছেন প্রায় ১০ হাজার পিস আনারকলি, যার পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি পিস ১০–১৫ টাকা। এতে তাঁর আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেখানে খরচ হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার।
স্ট্যালিন জানান, “বিঘাপ্রতি আনারকলি চাষে খরচ হয় ৫০–৬০ হাজার টাকা। তবে ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ১২–১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় আট মাস ফল পাওয়া যায়।”
এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রথমে অনেকেই স্ট্যালিনকে নিরুৎসাহিত করলেও এখন তাঁর বাগান দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে উদ্যোক্তারা আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, “আগে এই ফল চিনতাম না। এখন এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছে স্ট্যালিন ভাইয়ের আনারকলির বাগান।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাসন ফ্রুট বা আনারকলি ভিটামিন সি, আয়রণ ও জিংকে ভরপুর। এটি সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষযোগ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও নেই।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “স্ট্যালিনের আনারকলি চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মকে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে অনুপ্রাণিত করবে।”

