Name of Articleপুরোনো চক্রের কবলে সারের বাজার: নতুন নীতিমালায় আসছে বড় পরিবর্তন
AboutPolicy & Government
Topicকৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সংকট, নতুন নীতিমালা, সার বাজার
Share

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে পুরোনো প্রভাবশালী চক্র। পরিবহন ঠিকাদার ও ডিলারদের এই নেটওয়ার্ক অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, ফলে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। এই চক্র ভাঙতে সরকার সংশোধন করেছে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০০৯’, যা নতুনভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী জানুয়ারি থেকে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সারবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভায় নীতিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই নীতিমালা সারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিসিআইসি ও বিএডিসির আলাদা ডিলারশিপ একীভূত করা হচ্ছে। এক ছাতার নিচে আসবে পুরো সার বিতরণ প্রক্রিয়া। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ডিলার বাড়ানো, কারসাজিতে জড়িতদের বাদ দেওয়া, ডিজিটাল নজরদারি এবং ডিলার নিয়োগে নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই মাঠে নেমেছে পুরোনো চক্র। তারা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর ব্যানারে নানা কর্মসূচি চালিয়ে নীতিমালার বাস্তবায়ন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য ও পোটন ট্রেডার্সের মালিক কামরুল আশরাফ খান পোটনের প্রভাবশালী গোষ্ঠী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তিনি পূর্বে সরকারি সার আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে আছেন।

গত ২৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিএফএর প্রশাসক হিসেবে যুগ্মসচিব মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়োগ দেয়। এরপরও সংগঠনটির পুরোনো নেতারা বিএফএর নামে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন নীতিমালা বিলম্বিত করার দাবি জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় মনে করছে, এটি নীতিমালা বাস্তবায়ন ঠেকাতে পুরোনো প্রভাবশালীদের কৌশল।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইউরিয়া ও নন–ইউরিয়া দুই ধরনের সারই এখন থেকে একক ব্যবস্থাপনায় বিতরণ হবে। প্রতি ইউনিয়নে তিনটি, পৌরসভায় একটি এবং সিটি করপোরেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিলার ইউনিট থাকবে। সরকারি কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা একই পরিবারের একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন না।

ডিলার নিয়োগের যাচাই করবে জেলা সার ও বীজ তদারকি কমিটি। নতুন নীতিমালায় জামানত বাড়ানো হয়েছে দুই লাখ থেকে চার লাখ টাকা, আর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। বিক্রয়কেন্দ্রে সারের দাম, নাম ও সরকারি ভর্তুকির পরিমাণসহ তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কৃষি সচিব ড. মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, “আমরা সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে ডিলার ব্যবস্থাকে কৃষকবান্ধব করছি। এখন থেকে কৃষক সরকার নির্ধারিত দামে সার পাবেন, এবং বিক্রয়ের দায়ভার থাকবে ডিলারের ওপর। সরকার ডিলারকেই জবাবদিহির আওতায় আনবে।”

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments